সোমবার, অক্টোবর ৩, ২০২২
Homeপ্রধান সংবাদইউরোর মূল্য পতনে পশ্চিমা বাজারে পোশাক রপ্তানি কমে যাওয়ার শঙ্কা

ইউরোর মূল্য পতনে পশ্চিমা বাজারে পোশাক রপ্তানি কমে যাওয়ার শঙ্কা

ইউরো হচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর একক মুদ্রা। কিন্তু বর্তমানে ডলারের বিপরীতে সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছে ইউরো। কিছুদিন আগেও যেখানে ১০০ ইউরোর বিপরীতে ১১৩ ডলার পাওয়া যেতো। কিন্তু বর্তমানে ডলার আর ইউরো একই কাতারে এসে দাঁড়িয়েছে। ইউরোর এমন অবনমনের ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রধান রপ্তানি বাজারে মারাত্মক ঝুঁকির আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ডলারে কিনে ইউরোপে ইউরোতে বিক্রি করা বায়াররা আর্থিক ক্ষতির শঙ্কায় রপ্তানি অর্ডার কমিয়ে দিতে শুরু করেছে। অথচ বাংলাদেশি পোশাকের প্রধান রপ্তানি বাজারই হচ্ছে ইউরোপ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বিজিএমইএ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বাংলাদেশ থেকে গত অর্থবছরে মোট ৪২.৬ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। তার মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) ২৭ দেশেই ২১.৪০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি হয়েছে। যা মোট তৈরি পোশাক রপ্তানির ৫০ শতাংশ। তার সঙ্গে ইইউ থেকে বের হয়ে যাওয়া যুক্তরাজ্যের ৪.৪৯ বিলিয়ন ডলার যোগ হলে শুধু ইউরোপেই ২৫.৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। যা বাংলাদেশের বৈশ্বিক তৈরি পোশাক বাজারের ৬১ শতাংশ। কিন্তু বর্তমানে ডলারের বিপরীতে ইউরোর প্রায় ১১ শতাংশ অবনমনে ইউরোপিয়ান বায়ারদের খেসারত দিতে হবে।
সূত্র জানায়, ইউরোপীয় ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে মূলত মার্কিন ডলারে পোশাক কিনে ইউরোতে বিক্রি করে। তারা ওই দুই মাদ্রার মধ্যে দর সমন্বয় করে নেয়। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর সব কিছু পাল্টাতে শুরু করেছে। রাশিয়ার গ্যাস, তেল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করার পাল্টা ব্যবস্থায় চরম সংকটে পড়ে জার্মানি, ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইটালির মতো পরাশক্তিগুলো। আর ইইউর একক মুদ্রা ইউরোতেও তার প্রভাব পড়ে। চাঙ্গা হয়ে ওঠা ডলারের বিপরীতে পড়তে শুরু করে ইউরো। গতফেব্রুয়ারি প্রতি ১০০ ইউরোর বিপরীতে যেখানে ১১৩.৪৮ ডলার পাওয়া যেতো, সেখানে এখন ১০০ ইউরোর বিপরীতে ১০০.৫৯ ডলার পাওয়া যাচ্ছে। ১৯৯৯ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একক মুদ্রা হিসেবে আবির্ভাবের পর ইউরোকে এমন দুরবস্থায় পড়তে হয়নি।
সূত্র আরো জানায়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। ফলে ইউরোর অবনমনে বায়াররা চাইলে পণ্যের দামও বাড়াতে পারবে না। আর বর্তমানে ডলার রেটে কিনে ইউরোয় বিক্রি করলে বায়ারদের বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে। সাধারণত ইউরোপে শীতের সময় ক্রিসমাসকে সামনে রেখে পোশাক বিক্রি খুব ভালো হয়। কিন্তু গ্যাস সরবরাহের সমাধান না হলে ইউরোপের আগামী শীত খুবই বিপর্যয়কর হবে। ডলারের বিপরীতে ইউরোর অবমূল্যায়ন হওয়ার কারণে পোশাকের দাম আরো বেড়ে যাবে।
এ বিষয়ে বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি রকিবুল আলম চৌধুরী জানান, তৈরি পোশাকের অর্ডারের গতি কমে আসছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে ইউরোপ ও আমেরিকার অর্থনীতি এখন চাপের মুখে রয়েছে। ওসব দেশে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবনযাত্রার খরচও বেড়ে গেছে। ফলে মানুষ দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে গিয়ে বিলাসপণ্য কেনা কমিয়ে দিয়েছে।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত

- Advertisment - spot_img