বুধবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৪
Homeপ্রধান সংবাদকঠোর শাস্তির বিধান রেখে খাদ্যপণ্য মজুত আইনের নতুন খসড়া

কঠোর শাস্তির বিধান রেখে খাদ্যপণ্য মজুত আইনের নতুন খসড়া

খাদ্য মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ- রেখে খাদ্যদ্রব্যের উৎপাদন, মজুত, স্থানান্তর, পরিবহন, সরবরাহ, বিতরণ ও বিপণন (ক্ষতিকর কার্যক্রম প্রতিরোধ) আইন, ২০২২ এর নতুন খসড়া করেছে। মূলত মজুতদার ও অসাধু ব্যবসায়ীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতেই মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন দেয়ার পর এ-সংক্রান্ত খসড়া আইনে শাস্তিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় খসড়াটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে সবার মতামত নিচ্ছে। আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি সরকার নির্ধারিত পরিমাণের বেশি খাদ্যদ্রব্য মজুত করলে বা মজুত সংক্রান্ত সরকারের কোনো নির্দেশনা অমান্য করলে মৃত্যুদ- বা যাবজ্জীবন কারাদ- বা সর্বোচ্চ ১৪ বছরের সশ্রম কারাদ- এবং অর্থদ-ে দ-িত হবে। তবে শর্ত থাকে যে, এ অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি প্রমাণ করতে পারেন তিনি আর্থিক বা অন্য কোনো লাভের উদ্দেশ্য ছাড়া মজুত করেছিলেন, তা হলে সর্বোচ্চ ৩ মাস কারাদ- এবং অর্থদ-ে দ-িত হবেন। খাদ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সরকারের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম মন্ত্রিসভা গত বছরের ১৮ এপ্রিল খাদ্য মজুত আইনের খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেয়। তখন ওই আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি ৫ বছরের কারাদ- বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দ-ের প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী চাল, পেঁয়াজ, তেলসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্যের অবৈধ মজুতের মাধ্যমে ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে ক্রেতাদের ভোগাস্তিতে ফেলছে। তাতে বিব্রত হচ্ছে সরকার। এমন অবস্থায় কঠোর আইন করার উদ্যোগ নেয় খাদ্য মন্ত্রণালয়। সূত্র জানায়, নতুন আইন হলে ‘ফুড (স্পেশাল কোর্ট) অ্যাক্ট, ১৯৫৬’ ও ‘দ্য ফুডগ্রেইনস সাপ্লাই (প্রিভেনশন অব প্রিজুডিশিয়াল অ্যাকটিভিটি) অর্ডিন্যান্স ১৯৭৯’ বাতিল হয়ে যাবে। খসড়া আইনে উৎপাদন বা বিপণন সংক্রান্ত অপরাধ ও দ-ের বিষয়ে বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি কোনো অনুমোদিত জাতের খাদ্যশস্য থেকে উৎপাদিত খাদ্যদ্রব্যকে ওই ধরনের জাতের উপজাত পণ্য হিসেবে উল্লেখ না করে ভিন্ন বা কাল্পনিক নামে বিপণন করেন, খাদ্যদ্রব্যের মধ্য থেকে কোনো স্বাভাবিক উপাদান সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে অপসারণ করে বা পরিবর্তন করে উৎপাদন করেন বা বিপণন করেন বা খাদ্যদ্রব্যের সঙ্গে মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কৃত্রিম উপাদান মিশিয়ে উৎপাদন করেন বা বিপণন করেন, তবে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদ- বা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দ-ে দ-িত হতে হবে। খসড়া আইনে আরো বলা হয়, সরকার খাদ্যদ্রব্য সংগ্রহকালে সরকারি গুদামে রাখা খাদ্যদ্রব্য বৈধ বা অবৈধভাবে সংগ্রহ করে, দেশে উৎপাদিত খাদ্যদ্রব্যের পরিবর্তে আমদানিকরা খাদ্যদ্রব্য বা সরকারি গুদামের পুরনো বা বিতরণ করা সিল বা বিতরণ করা হয়েছে এমন চিহ্নযুক্ত খাদ্যদ্রব্য ভর্তি বস্তা বা ব্যাগ সরকারি গুদামে সরবরাহ করলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদ- বা ১০ লাখ টাকা অর্থদ- বা উভয় দ-ে দ-িত হবেন। তাছাড়া কোনো ব্যক্তি খাদ্য অধিদপ্তরের বিতরণ করা সিল বা বিতরণ করা হয়েছে এমন চিহ্নযুক্ত সিল ছাড়া সরকারি গুদামের খাদ্যদ্রব্য ভর্তি বস্তা বা ব্যাগ বিতরণ, স্থানান্তর, কেনাবেচা করলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদ- বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দ-ে দ-িত হবেন। আর কোনো ব্যক্তি খাদ্যদ্রব্যের উৎপাদন, মজুত, স্থানান্তর, পরিবহন, সরবরাহ, বিতরণ ও বিপণন সম্পর্কিত কোনো মিথ্যা তথ্য বা বিবৃতি তৈরি, মুদ্রণ, প্রকাশ, প্রচার বা বিতরণ করলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদ- বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দ- পেতে হবে। খসড়া আইনে আরো বলা হয়, অপরাধের বিচারের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আদালত থাকবে, যার নাম হবে খাদ্যদ্রব্য বিশেষ আদালত। ফৌজদারি কার্যবিধিতে যা কিছুই থাকুক না কেন সরকার সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দিয়ে প্রথম শ্রেণির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বা মেট্রোপলিটন এলাকার জন্য মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতকে খাদ্যদ্রব্য বিশেষ আদালত হিসেবে নির্ধারণ করতে পারবে। একাধিক আদালত নির্ধারণ করা হলে প্রত্যেকটি আদালতের জন্য স্থানীয় অধিক্ষেত্র নির্দিষ্ট করবে। এদিকে এ বিষয়ে খাদ্য সচিব মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেয়া আইনের খসড়ায় সংশোধন আছে। সে বিষয়ে মানুষের মতামত নেয়া হচ্ছে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর যখন আইনটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়, তখন মনে হয়েছে যে উদ্দেশ্যে আইনটি করা হচ্ছে, সেই উদ্দেশ্য থেকে কিছুটা দূরে আছি। তাই আইনের খসড়া করে তা ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আইন মন্ত্রণালয় থেকে ফিরে আসলে নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আইনটি মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদনের জন্য পাঠানো। আইনটি দীর্ঘমেয়াদি এবং কার্যকরি হওয়ার কথা। এ কারণে সময় নিয়ে আগানো হচ্ছে। কারণ এ আইন অনেক মানুষকে প্রভাবিত করবে এবং জনগণকে স্বস্তি দেবে। আমরা আইনে কোনো ঘাটতি রাখতে চাচ্ছি না।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত

- Advertisment - spot_img