রবিবার, জুন ২৩, ২০২৪
Homeপ্রধান সংবাদচার দিন পরও সন্ধান নেই চুরি যাওয়া স্বর্ণের

চার দিন পরও সন্ধান নেই চুরি যাওয়া স্বর্ণের

ঢাকা, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ : শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাস্টম হাউসের যে লকার রুম থেকে স্বর্ণ চুরি হয়েছে, তা ঘিরে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা স্পষ্ট হচ্ছে। ঘটনা জানাজানির পর চার দিন পার হলেও উধাও স্বর্ণের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। প্রধান সন্দেহভাজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম শাহেদ আগেই স্বর্ণ চুরির ব্যাপারে সহকর্মীর কাছে ধরা পড়েন বলে জানিয়েছেন তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা।

সাধারণত কাস্টম হাউসে দুই ধরনের লকার রুম রয়েছে। এর মধ্যে ট্রানজিট গোডাউন রেজিস্টার (টিজিআর) থেকে স্বর্ণ চুরির ঘটনা ঘটেছে। বিমানবন্দরের মতো স্থাপনায় লকার রুমের ব্যবস্থাপনায় স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) নেই। এমনকি সেখানে কোনো অনিয়ম হচ্ছে কিনা তা দেখভালের জন্য সিসি ক্যামেরা পর্যন্ত লাগানো হয়নি। বাইরে একটি সিসি ক্যামেরা লাগানো থাকলেও সেটি অকার্যকর। তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগে থেকে সিসি ক্যামেরাসহ প্রযুক্তি কাজে লাগালে কেউ চুরির সাহস পেত না। কেপিআইভুক্ত এলাকায় সিসি ক্যামেরা নষ্ট তা কোনো কর্মকর্তা খেয়াল রাখেননি।
ভল্ট ভেঙে ৫৫.৫১ কেজির স্বর্ণ গায়েব হওয়ার ঘটনায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করে। বিমানবন্দর থানা থেকে মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার এ সিদ্ধান্ত হয়।

থানা পুলিশের পর ডিবিও এরই মধ্যে ৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তাদের মধ্যে তিন সন্দেহভাজন হলেন– সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম শাহেদ, শহিদুল ইসলাম ও সিপাহি নিয়ামত হাওলদার। তারা এখনও ডিবির হেফাজতে রয়েছেন। যে কোনো সময় কাস্টমসের এই তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার দেখানো হতে পারে। মূল সন্দেহভাজন শাহেদ শুরু থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে এলোমেলো তথ্য দিয়ে যাচ্ছেন।

তদন্ত কতদূর এগোল– এমন প্রশ্নে থানা পুলিশ ও ডিবির তিনজন কর্মকর্তা জানান, মামলায় বলা হয়েছে ২ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ১২টা থেকে সকাল ৮টার মধ্যে স্বর্ণালংকার ও বার সরানো হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, এক রাতে এত স্বর্ণ সরানো কঠিন। অনেক দিন ধরে ধীরে স্বর্ণ সরিয়ে নেওয়া হয়। যারা লকার রুমের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন তারাই এই অপকর্মে জড়িত। এখন পর্যন্ত তিনজন সন্দেহে থাকলেও হোতা হিসেবে তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শাহেদকে বিবেচনা করছেন। তিনি ঢাকা কাস্টমসের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত।

তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, লকার রুম ছিল অনেকের কাছে ‘সোনার ডিম’ পাড়া হাঁসের মতো। রেজিস্টার খাতায় উল্লেখ ছাড়াও হিসাববিহীন মালপত্র সেখানে গচ্ছিত রেখে পরে কৌশলে সরিয়ে নেওয়া হতো কিনা তাও তদন্ত করে দেখা হবে। প্রথমে চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে চায় পুলিশ। এরপর কারা, কীভাবে মালপত্র কিনেছে বা কোথায় লুকিয়ে রাখা হলো তা বের করা হবে। বায়তুল মোকাররম মার্কেট থেকে একটি স্বর্ণ গেছে– এমন তথ্যের পর বিষয়টি ঘিরেও শুরু হয়েছে তদন্ত।

অপর একটি সূত্র জানায়, ঢাকা কাস্টম হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত শাহেদ দীর্ঘদিন ধরে লকার রুমের দায়িত্বে ছিলেন। সম্প্রতি তাঁর দায়িত্ব বদল হয়েছিল। এরপর কাস্টমসের নতুন একটি দলের ওপর লকার রুমের নিরাপত্তা বর্তায়। এ সময় লকার রুমের ফাঁকফোকর সামনে আসতে থাকে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নেপথ্যের কোনো রাঘববোয়াল ছাড়া সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাদের পক্ষে এত বড় কাণ্ড ঘটানো কঠিন। ‘ওপর থেকে নিচতলার’ অনেকেই বিষয়টি জানতেন।

ডিবি উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) আকরাম হোসেন বলেন, অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি বিমানবন্দর থানা থেকে ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তদন্তের কাজ শুরু হয়েছে। সন্দেহভাজন কয়েকজনকে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত

- Advertisment - spot_img