সোমবার, অক্টোবর ৩, ২০২২
Homeপ্রধান সংবাদডিআইজি মিজানের জামিন বহাল, সাজা বাড়ানো নিয়ে রুল

ডিআইজি মিজানের জামিন বহাল, সাজা বাড়ানো নিয়ে রুল

তথ্যপাচার ও ঘুষ লেনদেনের দায়ে বিচারিক আদালতে তিন বছরের কারাদ-প্রাপ্ত পুলিশের বরখাস্ত উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমান মিজানকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছেন চেম্বার আদালত। জামিন স্থগিত চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা আপিল আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল সোমবার আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহীমের আদালত ‘নো অর্ডার’ দেন। এদিন আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। মিজানুর রহমানের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব শফিক। আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। তিনি জানান, আপিল আবেদনের ওপর ‘নো অর্ডার’ দিয়েছেন আদালত। আমরা ‘লিভ টু আপিল’ করবো। অন্যদিকে মিজানুর রহমানের সাজা কেন বাড়ানো হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। গতকাল সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। শুনানিতে দুদকের পক্ষের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান বলেন, তথ্য পাচার ও ঘুস লেনদেনের মামলায় সাবেক ডিআইজি মিজানের সাজা দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ এর (২) ধারায় তিন থেকে বাড়িয়ে সাত বছর কেন করা হবে না তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্টের রুলে। মিজানুর রহমানকে দ-বিধির ১৬১ ধারায় তিন বছরের কারাদ- দিয়েছিলেন আদালত। তবে অর্থ পাচারের অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছেন তিনি। পরে গত ৭ এপ্রিল অর্থপাচার আইনের ৪ ধারায় অভিযোগ থেকে দেওয়া খালাসের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত ১০ এপ্রিল এ অভিযোগ থেকে খালাসের আদেশটি পুনর্বিবেচনার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মামলার সব নথি তলব করা হয়েছে। ওইদিন দুদকের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান জানান, অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনের ৪ ধারায় খন্দকার এনামুল বাছিরকে পাঁচ বছর কারাদ- ও ৮০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কিন্তু মিজানুর রহমানকে খালাস দেওয়া হয়েছে। তাই রায়ের এ অংশের বিরুদ্ধে দুদক আপিল আবেদন করা হয়েছে। এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম এ মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে দুদকের বরখাস্ত পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে আট বছর ও পুলিশের বরখাস্ত উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানকে তিন বছর কারাদ- দেন আদালত। এ ছাড়া বাছিরকে ৮০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। মিজানের রায়ে বিচারক বলেন, ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে দ-বিধির ১৬৫(এ) ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। দুই ধারার অপরাধ একই ধরনের হওয়ায় তাকে একটি ধারায় অর্থাৎ ১৬৫(এ) ধারায় তিন বছরের কারাদ- দেওয়া হলো। বাছিরের রায়ে বিচারক বলেন, বাছিরের বিরুদ্ধে দ-বিধির ১৬১ ধারা, মানি লন্ডারিং আইন ও দুদক আইনের ৫ (২) ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তাকে মানি লন্ডারিং আইনে পাঁচ বছরের কারাদ- ও ৮০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া দ-বিধির ১৬১ ধারায় তিন বছরের কারাদ- দেওয়া হলো। উভয় সাজা একসঙ্গে চলবে। ২০১৯ সালের ৯ জুন একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে প্রচারিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্নীতির অনুসন্ধান থেকে দায়মুক্তি পেতে দুদক পরিচালক বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা ঘুস দিয়েছিলেন ডিআইজি মিজান। ৪০ লাখ টাকার ঘুস কেলেঙ্কারির অভিযোগে ২০১৯ সালের ১৬ জুলাই দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ দুদকের পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্লাহ বাদী হয়ে মামলাটি করেছিলেন। ২০২০ সালের ১৯ জানুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের একই কর্মকর্তা। গত বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশ। এরপর তিনি মামলাটি বিশেষ জজ আদালত-৪ এ বদলির আদেশ দেন। গত বছরের ১৮ মার্চ আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার থাকাকালে বিয়ে গোপন করতে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করানোর অভিযোগ ওঠে ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া এক সংবাদ পাঠিকাকে প্রাণনাশের হুমকি ও উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে মিজানুরের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) হয়। এরপর নারী নির্যাতনের অভিযোগে ২০১৯ সালের জানুয়ারির শুরুর দিকে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদরদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। ওই বছরের ২৪ জুন সম্পদের তথ্য গোপন ও অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মিজানুরের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। এর অনুসন্ধান কর্মকর্তা ছিলেন তৎকালীন দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির। মামলার তদন্তকালে ডিআইজি মিজান অভিযোগ করেন, অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থেকে রেহাই দিতে এনামুল বাছির তার কাছে ৪০ লাখ টাকা ঘুস নেন। এ অভিযোগ ওঠার পর এনামুল বাছিরকে সরিয়ে দুদকের আরেক পরিচালক মো. মঞ্জুর মোরশেদকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। ঘুস লেনদেনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে শেখ মো. ফানাফিল্যাকে প্রধান করে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় তিন সদস্যের একটি দলকে। গত ৪ এপ্রিল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ডিআইজি মিজানের খালাস চেয়ে আবেদন করেন তার আইনজীবী। এরপর ৬ এপ্রিল সেই আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে জামিন আবেদনের ওপর শুনানির জন্য ১৩ এপ্রিল দিন ধার্য করেন আদালত। এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তথ্যপাচার ও ঘুস লেনদেনের অভিযোগে মিজানকে তিন বছর ও দুদকের তৎকালীন পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে আট বছরের কারাদ- দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম। ২০১৯ সালের ৯ জুন একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে প্রচারিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে পরিচালিত দুর্নীতির অনুসন্ধান থেকে দায়মুক্তি পেতে দুদক পরিচালক বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা ঘুস দিয়েছিলেন ডিআইজি মিজান। ২০১৯ সালের ২২ জুলাই এনামুল বাছিরকে গ্রেপ্তার করে দুদকের একটি দল। সেই থেকে তিনি কারাগারে আছেন। অপরদিকে দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার ডিআইজি মিজানকে এ মামলায়ও গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত বছর ৯ ফেব্রুয়ারি মিজান-বাছিরের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ। এরপর তিনি মামলাটি বিশেষ জজ আদালত-৪ এ বদলির আদেশ দেন। গত বছরের ১৮ মার্চ আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার থাকাকালে বিয়ে গোপন করতে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করানোর অভিযোগ ওঠে ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া এক সংবাদপাঠিকাকে প্রাণনাশের হুমকি ও উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে মিজানুরের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) হয়। এরপর নারী নির্যাতনের অভিযোগে ২০১৯ সালের জানুয়ারির শুরুর দিকে ডিআইজি মিজানকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদরদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। ওই বছরই ২৪ জুন সম্পদের তথ্য গোপন ও অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মিজানুরের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। এ মামলার অনুসন্ধান কর্মকর্তা ছিলেন তৎকালীন দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির। ঘুস নেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর এনামুল বাছিরকে সরিয়ে দুদকের আরেক পরিচালক মো. মঞ্জুর মোরশেদকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। ঘুস লেনদেনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে শেখ মো. ফানাফিল্যাকে প্রধান করে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় তিন সদস্যের একটি দলকে। গত বছরের ১৯ আগস্ট মামলার এক নম্বর সাক্ষী ও বাদী দুদক পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্যা আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন। এর মধ্য দিয়ে শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে করা অপর এক মামলায় মিজানুর রহমানসহ চারজনের বিচার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক আসাদ মো. আসিফুজ্জামানের আদালতে চলছে।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত

- Advertisment - spot_img