রবিবার, জানুয়ারি ২৯, ২০২৩
Homeপ্রধান সংবাদদেশে চলতি বোরো মৌসুমে সার সঙ্কটের শঙ্কা নেই

দেশে চলতি বোরো মৌসুমে সার সঙ্কটের শঙ্কা নেই

দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ ইফরিয়া সারের মজুত রয়েছে। ফলে বোরো মৌসুমে সার সঙ্কটের কোনো শঙ্কা নেই। যদিও গত আমন মৌসুমে বাড়তি দাম দিয়েও কোনো কোনো জেলায় চাহিদামতো মেলেনি সার। পরিবেশকদের কাছে ধরনা দিয়ে যে পরিমাণ সার পাওয়া গেছে তাও ছিল চাহিদার তুলনায় অনেক কম। তার প্রভাব উৎপাদনেও পড়ে। কিন্তু চলতি বোরো মৌসুমে তেমন শঙ্কা নেই। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিসিআইসির দেশে ইউরিয়া সার উৎপাদন ও আমদানির দায়িত্ব। স্থানীয় বাজারে বর্তমানে চাহিদার তুলনায় ইউরিয়া সারের সরবরাহ বেড়েছে। একইসঙ্গে মজুতও বাড়ছে। বিসিআইসির কাছে ৯ লাখ ৬৪ হাজার টন ইউরিয়া মজুত রয়েছে। যা বিগত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ লাখ ৪৪ হাজার টন বেশি। তার মধ্যে সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন বাজারে ডিলারদের আড়াই লাখ টনেরও বেশি ইউরিয়া সরবরাহ করা হয়েছে। আর গুদামে মজুত রয়েছে ৫ লাখ ৮২ হাজার টন। তাছাড়া বন্দরে খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে ৩ লাখ ৮০ হাজার টন ইউরিয়া। পাশাপাশি দেশে এখন ৪ লাখ ১১ হাজার টন টিএসপি (ট্রিপল সুপার ফসফেট), ৯ লাখ ৩১ হাজার টন ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট) এবং ৩ লাখ ৩৮ হাজার টন এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) মজুত রয়েছে। সবগুলো সারের মজুতই গত বছরের তুলনায় এবং বোরো মৌসুমের চাহিদার চেয়ে বেশি।
সূত্র জানায়, আগামী মার্চ মাস পর্যন্ত দেশে ইউরিয়ার চাহিদা হবে মোট ১৫ লাখ ৩৬ হাজার টন। সেখানে ৯ লাখ ৬৪ হাজার টন মজুত এবং আরো সাড়ে ১৩ লাখ টন আমদানি পাইপলাইনে রয়েছে। অর্থাৎ মার্চের পরেও ৭ লাখ ৭৮ হাজার টন ইউরিয়া সারের বাড়তি মজুত থাকবে। একইভাবে ওই সময় দেশে ২ লাখ ১ হাজার টন টিএসপি, ২ লাখ ৭৮ হাজার টন ডিএপি ও ১ লাখ ৮২ হাজার টন এমওপি সার বাড়তি থাকবে। শেষ দফায় দুই ধাপে জিটুজি পদ্ধতিতে সৌদি আরব থেকে আমদানি করা হয়েছে মোট ৬ লাখ টন সার। তবে মাঝে ডলার সঙ্কটে কিছু চুক্তির এলসি বাতিল হলেও সরকারের নির্দেশনায় ওই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। ফলে স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে রয়েছে সার আমদানি ও মজুত পরিস্থিতি।
সূত্র আরো জানায়, প্রতি বছর দেশে প্রয়োজন হয় ২৬ লাখ টন ইফরিয়া সার। তার মধ্যে প্রায় ১০ লাখ টন যোগান দেয় সরকারি সার কারখানাগুলো। তবে গ্যাস সঙ্কটে চলতি বছর ওই যোগান অর্ধেকে নেমেছে। ফলে চাহিদার বাকি সার সরকার জিটুজি প্রক্রিয়ায় সৌদি আরব, কাতার ও দুবাই থেকে আমদানি করে পূরণ করা হয়। তাছাড়া বছরে সাড়ে ৭ লাখ টন টিএসপি, সাড়ে ১৬ লাখ টন ডিএপি এবং সাড়ে ৮ লাখ টন এমওপি সারের চাহিদা রয়েছে। ওই তিন ধরনের সারেরও বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে চাহিদা পূরণ করা হয়। যদিও গত মৌসুমেও প্রকৃতপক্ষে সারের খুব বেশি সঙ্কট ছিল না। আর যেটুকু ঘাটতি ছিল তা পূঁজি করে সারাদেশের সার ডিলররা কারসাজি করেছে। এ মৌসুমেও তেমন ধরনের পরিস্থিতির আশঙ্কা থেকে যায়। চলতি বছরের মাঝামাঝি থেকে দেশের স্থানীয় ইউরিয়া উৎপাদনকারী কারখানাগুলোর বেশিরভাগই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ থাকায় আমদানির উপর তৈরি হয়েছিল বাড়তি চাপ। আর আমদানি যখন বাড়তি গুরুত্ব পায় তখনই ডলার সঙ্কটের কারণে সরবরাহ পরিস্থিতি ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। দেশে সার নিয়ে হাহাকার শুরু হয়।
এদিকে এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ উইংয়ের অতিরিক্ত সচিব বলাই কৃষ্ণ হাজরা জানান, এখন আর সার নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। কৃষকরা বোরোর জন্য পর্যাপ্ত সার পাবে। বর্তমানে চাহিদার চেয়ে বেশি সার মজুত রয়েছে। পর্যাপ্ত সার সরবরাহের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যাতে কোথাও সারের সংকট না হয়।
অন্যদিকে এ বিষয়ে বিসিআইসির পরিচালক সাইফুল ইসলাম খান জানান, আমদানির পরেও ৫ লাখ টন সার কর্ণফুলী সার কারখানায় উৎপাদন করা হয়েছে। আর চলতি অর্থবছরে যমুনা, শাহাজালাল, আশুগঞ্জ ও চিটাগং ইউরিয়া কারখানায় আরো ৭ লাখ টন সার উৎপাদনের টার্গেট রয়েছে। সার নিয়ে সার্বিকভাবে আর কোনো শঙ্কা নেই।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত

- Advertisment - spot_img