সোমবার, মে ২৭, ২০২৪
Homeঅর্থনীতিদেশে ব্যাপকভাবে বেড়েছে খাদ্যশস্যের আমদানি ব্যয়

দেশে ব্যাপকভাবে বেড়েছে খাদ্যশস্যের আমদানি ব্যয়

সার্বিকভাবে দেশে খাদ্যশস্যের উৎপাদন বেড়েছে। তারপরও ব্যাপকভাবে খাদ্যশস্যের আমদানি বাড়ছে। আর যে হারে খাদ্যপণ্যের আমদানি বাড়ছে, তার কয়েক গুণ বেশি ব্যয় বাড়ছে। অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৫ মাসের হিসাব অনুযায়ী দেশে খাদ্যশস্যের আমদানি ১২ শতাংশ বেড়েছে। আর ওই সময় আমদানি ব্যয় বেড়েছে ৯২ শতাংশেরও বেশি। যদিও গত অর্থবছর শেষে খাদ্যশস্য আমদানি বেড়েছিল ৩.৫ শতাংশ। তার বিপরীতে ব্যয় বেড়েছিল ৬০ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আমদানি খাত সংশ্লিষ্টদের সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, শুধু খাদ্যশস্যই নয়, মসলাপণ্য ছাড়া গত ৪ মাসে ভোজ্য তেল, দুধ ও ক্রিম, ডাল, চিনিসহ সব ধরনের ভোগ্য পণ্যের রেকর্ড আমদানি ব্যয় বেড়েছে। ওই সময় ভোজ্য তেল আমদানিতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় বেড়েছে। যার পরিমাণ ৯২ শতাংশ। মূলত ডলার, জাহাজভাড়া ও আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে খাদ্যপণ্যের আমদানি ব্যয় বেড়েছে। আর গত বছর করোনা থাকায় অনেক পণ্যের চাহিদাও কম ছিল। কিন্তু চলতি বছর সব কিছু খুলে দেয়ায় পণ্যের আমদানিও অনেক বেড়েছে। যা আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
সূত্র জানায়, চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত দেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে মোট খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছে ২৪ লাখ ৩১ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন, যা গত বছর (২০২০-২১) একই সময়ের তুলনায় ১২.৪৫ শতাংশ বেশি। আমদানি করা ওসব খাদ্যশস্যের মধ্যে চালের পরিমাণ ৮ লাখ ২১ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন। বাকি ১৬ লাখ ১০ হাজার টন গম। আর গত অর্থবছর একই সময়ে মোট খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছিল ২১ লাখ ৬২ হাজার ৪৬০ মেট্রিক টন। গত বছর প্রথম ৫ মাস সরকারিভাবে কোনো চাল আমদানি হয়নি। শুধু বেসরকারিভাবে ৬০ মেট্রিক টন চাল আমদানি হয়েছিল। তবে গত বছর ওই সময় গমের আমদানি ছিল চলতি বছরের চেয়ে অনেক বেশি। ওই বছর জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৫ মাসে দেশে সরকারি ও বেসরকারিভাবে গম আমদানি হয় ২১ লাখ ৬২ হাজার ৪০০ টন।
সূত্র আরো জানায়, চলতি অর্থবছরের পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) দেশে খাদ্যশস্য আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ১৩২ কোটি ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার। গত বছর একই সময় ওই খাতে আমদানি ব্যয় ছিল ৬৮ কোটি ৮৩ লাখ ডলার। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এই সময় আমদানি ব্যয় বেশি হয়েছে ৬৩ কোটি ৫২ লাখ ডলার বা ৯২.২৯ শতাংশ। গত বছর (২০২০-২১) নভেম্বর পর্যন্ত চাল আমদানিতে ব্যয় হয়েছিল ৯৩ লাখ ডলার। চলতি বছর ব্যয় বেড়ে ৩৭ কোটি ৮১ লাখ ডলারে উঠেছে। ওই হিসাবে ওই খাতে ব্যয় বেড়েছে ৩৯৬৫ শতাংশ। গত বছর গম আমদানিতে ব্যয় হয়েছিল ৬৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার। চলতি বছর ৩৯ শতাংশ বেড়ে ৯৪ কোটি ৫৪ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া গত অর্থবছর (২০২০-২১) দেশে মোট খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছে প্রায় ৬৬ লাখ ৫৩ হাজার মেট্রিক টন, যা গত চার দশকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। আমদানি করা খাদ্যশস্যের এক-চতুর্থাংশই ছিল চাল, বাকিটা গম। ওই সময় চাল আমদানি হয় ১৩ লাখ ৫৩ হাজার টন। ওই আমদানি ২০১৯-২০ অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৩.৫ শতাংশ বেশি। ওই অর্থবছরে মোট খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছিল প্রায় ৬৪ লাখ ৩৪ হাজার টন। তাছাড়া ২০২০-২১ সালে খাদ্য আমদানিতে ব্যয় হয়েছিল ২৬৮ কোটি ডলার, যা তার আগের বছরের তুলনায় ৬০ শতাংশ বেশি। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় হয়েছিল ১৬৭ কোটি ডলার।
এদিকে এ বিষয়ে আমদানিকাররা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি আমদানি খরচ বাড়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। তাছাড়া ওই সময় জাহাজভাড়া বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ। ডলারের দামও বেড়েছে অনেক। তবে আমদানি ব্যয় বাড়লেও ভোগ্য পণ্যের আমদানির পরিমাণ কিছুটা কমেছে। কারণ পণ্যের আমদানি খরচ বাড়লে চাহিদা স্বাভাবিক নিয়মেই কিছুটা কমে যায়।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত

- Advertisment - spot_img