বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২
Homeপ্রধান সংবাদনতুন নির্বাচন কমিশন আওয়ামী চেতনায় লালিত: রিজভী

নতুন নির্বাচন কমিশন আওয়ামী চেতনায় লালিত: রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার: কাজী হাবিবুল আউয়াল নেতৃত্বাধীন নতুন নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগ চেতনায় লালিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, জনগণের দাবি উপেক্ষা করে নিজেদের রচিত সার্চ কমিটি দিয়ে নিজেদের নির্বাচন কমিশন করেছেন। যাদের সবাই আওয়ামী লীগ চেতনায় লালিত, জয় বাংলা চেতনায় লালিত। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) ঢাকা মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন রিজভী। অনুষ্ঠান শুরুর আগে জাসাস উত্তর ও দক্ষিণের নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা ধাক্কাধাক্কি হয়। অবশ্য পরক্ষণেই তা থেমে যায়। গত রোববার শপথ নেন নতুন নির্বাচন কমিশনাররা। তবে প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি বলছে, নির্বাচন কমিশন নিয়ে তাদের কোনো আগ্রহ নেই। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে দলটি। এসময় পুরো নির্বাচন কমিশন, পুরো সার্চ কমিটি সম্পূর্ণরূপে প্রহসন দাবি করে তিনি বলেন, এগুলো সব প্রধানমন্ত্রীর চেতনায় লালিত, তারা প্রধানমন্ত্রীর চাকরি করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রমোশন দিয়েছেন তারা প্রধানমন্ত্রীর বাইরে যাবেন এ ধরনের দৃষ্টান্ত অতীতের কারো মধ্য থেকে পাইনি। তাই নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারই অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের একমাত্র গ্যারান্টি বলে মনে করেন বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা। এ দাবিতে দেশের মানুষ সোচ্চার জানিয়ে তিনি বলেন, আন্দোলনে সারাদেশের মানুষ রাজপথে বেরিয়ে আসবে। আলোচনা করলে অনেক কিছু সমাধান হতে পারে নতুন নির্বাচন কমিশনারের এ ধরনের বক্তব্যের জবাবে রিজভী বলেন, এ ধরনের কথা আগের নির্বাচন কমিশনারও বলেছিলেন। সেই আলোচনায় বিএনপি গেছে। তারা আশ্বাস দিয়েছিলেন, এমনকি তারা আশ্বাস দিয়েছিলেন যে ইভিএমের ব্যাপারে জনগণ, রাজনৈতিক দলগুলোর সন্দেহ আছে। হুদা সাহেব বলেছিলেন, অধিকাংশ দল না চাইলে ইভিএমে ভোট হবে না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কথায় সেই হুদা সাহেব ইভিএমও রেখেছেন এবং দিনের ভোট রাতে করেছেন। সুতরাং তার (নতুন সিইসির) কথার কোনো গ্যারান্টি নেই। কারণ তিনিতো পুরস্কৃত হয়েছেন। তিনি সরকারের কাছ থেকে এত পেয়েছেন তাতে জনগণ বিশ্বাস করে না যে তিনি একটি অবাধ নির্বাচন করবেন। কারণ তার মাথার ওপরেতো শেখ হাসিনা আছেন। শেখ হাসিনার চিন্তা, চেতনা, রাজনৈতিক দর্শনে বহুদলীয় গণতন্ত্র নেই। সুতরাং তার অধীনে তিনি (সিইসি) কী নির্বাচন করবেন? তিনিতো নির্বাচন করতে পারবেন না। অর্থাৎ নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই একমাত্র নির্বাচন স্বচ্ছ-অবাধ হবে। এটা বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বাস করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও বিশ্বাস করে। রিজভী বলেন, আমরা একটা কঠিন দুর্দিন অতিক্রম করছি। আজকে মানুষের পেটে খাবার নেই। চারিদিকে হাহাকার। সরকার শুধু উন্নয়নের গালভরা বুলি আওরায়। অথচ মানুষ খাবার, চিকিৎসার অভাবে সন্তান বিক্রি করছে। খাবারের অভাবে একজন ছাত্র আমি দুবেলা খেতে চাই, ছাত্র পড়ানোর বিনিময়ে। তিনি অভিযোগ করেন, আজকে তথাকথিত উন্নয়নের নামে এ সরকারের লোকেরা লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। ক্ষমতাসীন দলের লোকদের টাকার পাহাড় হয়েছে। তারা বিভিন্ন দেশে বাড়ি করেছে, অট্টালিকা করেছে। লন্ডন, কানাডা, মালয়েশিয়া, দুবাইতে বাড়ি করেছে। এগুলো বানানো কথা নয়, দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে এসব খবর এসেছে। অর্থাৎ যে টাকা বাংলাদেশের মানুষের আর্থিক উন্নয়নে কাজ হতো সেই টাকা তারা নিজেরা আত্মসাৎ করেছে। রিজভী বলেন, আজকে সবার বক্তব্য উপেক্ষা করে তারা জয় বাংলায় লালিতদের দিয়ে নির্বাচন কমিশন করেছে। গত সোমবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, সব রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করলে কেউ ভোট কাটতে পারবে না। আপনার আগের কমিশন হুদা সাহেবওতো তাই বলেছেন। তারপর কী নির্লজ্জভাবে সরকারের প্রতিটি এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছেন, নির্লজ্জভাবে দিনের ভোট রাতে কেড়ে নিয়ে গেছেন। অর্থাৎ সব গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কবর দেওয়া হয়েছে। সুতরাং দাবি একটাই, নির্বাচন কমিশন, সার্চ কমিটি সম্পূর্ণরূপে একটা প্রহসন। এরা সবাই প্রধানমন্ত্রীর চেতনায় লালিত। তারা আগে প্রধানমন্ত্রীর চাকরি করেছে, প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রমোশন দিয়েছে, তারা প্রধানমন্ত্রীর বাইরে যাবেন এ ধরনের দৃষ্টান্ত তাদের অতীতের কর্মকা- থেকে পাইনি। তাই অবাধ নির্বাচনের একমাত্র গ্যারান্টি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার। সেই নির্বাচনে যেই আসুক না কেন, তারাই সরকার গঠন করবে। এ দাবিতে আজকে সারাদেশের মানুষ রাজপথে বেরিয়ে আসবে। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নবগঠিত কমিটির নেতাদের সঙ্গে নিয়ে রুহুল কবির রিজভী জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা ও ফাতেহা পাঠ করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন জাসাস আহ্বায়ক হেলাল খান ও সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকন, জাসাস মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক মো. শরীফুল ইসলাম স্বপন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মালেক মুন্সি, সদস্য সচিব মো. আনোয়ার হোসেন আনু, মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম স্বপন, সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক শওকত আজিজ, সদস্য সচিব শফিকুল হাসান রতন প্রমুখ।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত

- Advertisment - spot_img