শুক্রবার, মার্চ ১, ২০২৪
Homeআমেরিকামোহ একনিষ্ঠতার পথে অন্তরায়।

মোহ একনিষ্ঠতার পথে অন্তরায়।

দিলরুবা
মোহ ও ভালোবাসা এক নয়।মোহ ক্ষণস্থায়ী,মোহে পড়ে মানুষ হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে, ফলশ্রুতি তে বিবেক বর্জিত ঘৃন্য অপরাধে জড়িয়ে পড়ে যার ফলে পরিবারের ভাঙনের সুর বাজে।নেটের যান্ত্রিক দুনিয়ায় অবাধে আমাদের সন্তানেরা আমাদের নজরদারীর অভাবে নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়।ছাত্ররা বিভিন্ন নিষিদ্ধ ওয়েভ সাইটে,চেটিং এ মোহময় সম্পর্ক তৈরী করে,অপরদিকে বিবাহিতরা স্ত্রী বা স্বামী থাকা অবস্হায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানাবিধ অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে যায়, ডেটিং, চেটিং এর মাধ্যমে সস্তা বিনোদন খুজতে গিয়ে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়ে।পৃথিবীতে আমরা ক্ষণস্থায়ী। এই ক্ষণস্থায়ী জিবনের কর্মের প্রতিফল হিসেবে আমাদের অনন্ত জিবনের বাসস্হান হবে জান্নাত বা দোযগ।সেই সফল মুমিন যে তার সৎকর্মের দ্বারা চিরস্থায়ী জান্নাত লাভ করতে পারে এবং দুনিয়ার জিবনকে পরিবার পরিজনকে সুশিক্ষার মাধ্যমে শান্তিময় করে যেতে পারে।সম্পর্কের টানাপোড়েন,বিবাহ বিচ্ছেদ,নেশাদ্রব্য পান করা,মদ -জুয়া, গাঁজা হেরোইন আসক্তির কারণে সামাজিক অস্হিরতা দিন দিন উদ্যেগজনকভাবে বেড়েই চলেছে।অনেকে মানসিক রোগী হয়ে যায়,ডিফ্রেশনে ভোগে।গত কয়েক মাস আগে আমেরিকার এক ভাঙালী পরিবারের দুইছেলে মা বাবা সহ পরিবারের সবাইকে খুন করেছে,আমাদের দেশেও এরকম অনেক উদাহরণ আছে।তাই পরিবারের সদস্যদের কেউ ডিফ্রেশনে আছে কিনা বা মানসিক রোগে আক্রান্ত কিনা তা খেয়াল রাখা এবং একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া তাতে করে বড় কোনো বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।আমরা প্রতিদিনই সংবাদের শিরোনাম দেখি পরকীয়ার জেরে খুন অথবা স্বামী বা স্ত্রীকে ডিভোর্স দিয়ে অবৈধ সম্পর্ক স্হাপনকারীকে নিয়ে রঙিন স্বপ্নে বিভোর হয়ে পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি করছে বা ব্যভিচারীকে নিয়ে পালিয়ে গেছে😭😭 মনে রাখা উচিত যে নারী বা পুরুষ নিরপরাধ একজনের সংসার ভাঙতে পারে সে দুদিন আপনার থেকে মজা লুটে আপনার টাকা পয়সা হাতিয়ে আপনাকে লাথি মেরে আরেকজনের গলায় ঝুলে পড়বে।এটা হচ্ছে রুঢ় বাস্তবতা, আমাদের চারপাশে এরকম ঘটনা অহরহ ঘটছে।একজনে চার পাঁচজনের সাথে প্রেম করছে।মানুষ শয়তানের পাল্লায় পড়ে এরকম জঘন্য ভুল করে থাকে,কিন্তু আল্লাহপাকের কাছে তওবা করে ভুল পথ থেকে ফিরে আসলে অসীম দয়ালু আল্লাহপাক ক্ষমা করে দেন।যারা বারবার ভুল করে তারা চিরস্হায়ীভাবে শয়তানের সাগরেদে পরিনত হয়।এক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের উচিত গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখা।অভিভাবকদের দায়িত্বশীল আচরণ করা।বিপদগামী সন্তানকে সুপথে ফিরিয়ে আনা,ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা দেওয়া, এ জিবনের পাপ পূর্ন্য কর্মের দ্বারা পরকালের চিরস্হায়ী জাহান্নামের ভয়ন্কর শাস্তি আগুনে ঝলসানো উত্তপ্ত গলিত পদার্থ পান ও জালিমদের জন্য জাহান্নামের ফুটন্ত জাক্কুম বৃক্ষ আহার। সীমা লঙ্ঘনকারীরা এটা ভক্ষণ করবে এবং এর দ্বারা উদর পূর্ণ করবে।(সুরা ছাফ্ফাত, আয়াত ৬২-৬৮)।চিরস্হায়ী শান্তির বাসস্হান জান্নাতে হবে এটা ছোটবেলা থেকে শিক্ষা দেওয়া তাহলে পাপের ভয়ে সন্তান কোনো অপকর্ম করতে বারবার ভাববে এবং বিরত হবে।আল্লাহপাক বলেন,”তোমরা ব্যাভিচারের নিকটবর্তী হয়োনা,এটা অশ্লীল কাজ এবং নিকৃষ্ট আচরণ”।(সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত-৩২)সুরা নুর এর ২,৩০ ও ৩১ আয়াতে ও আল্লাহপাক ব্যভিচারের শাস্তি ও সতর্ক করেছেন।এছাড়াও সুরা আনকাবুতে মহান আল্লাহপাক বলেছেন,তুমি মুহাম্মদ তোমার প্রতি প্রত্যাদিষ্ট গ্রন্হ আবৃতি কর এবং নামাজ প্রতিষ্ঠা কর।কারণ নামাজ অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে, আল্লাহর স্মরণই সর্বশ্রেষ্ঠ, তোমরা যা কর আল্লাহ তা জানেন।আয়াত-৪৫। তাই পরিবারের ভাঙন রোধে, পরিবারের সদস্যদের মানবিক হতে, লেখাপড়ায় মনোযোগী হতে সংসারের প্রতি পরিবারের সদস্যদের প্রতি যত্নশীল হতে অভিভাবক বা বড়দের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে, কেউ মানসিক রোগে ভুগে থাকলে তাকে সংকোচ ঝেড়ে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে চিকিৎসা করানো তাহলে আত্নহত্যা বা অন্য কোনো জটিল পরিস্হিতি রোধ করা সম্ভব।এটা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব আমাদের সন্তানরা লেখাপড়া ঠিকমতো করছে কিনা,অন্যকোনো খারাপ কাজে আসক্ত কিনা?স্বামী বা স্ত্রী তার সঠিক দায়িত্ব পালন করছে কিনা? তবেই গৃহ বা পরিবারে শান্তির সুবাতাস বইবে।আর ভাবুন আপনার পুত্র বা কন্যা যেমন আপনার রাজপুত্র -রাজকন্যা। তেমনি আপনার মেয়ের জামাই বা পুত্রবধূ ও আরেকজনের রাজপুত্র বা রাজকন্যা। তাই তাদেরকেও সেরকম আপন করে রাজপুত্র, রাজবধু ভেবে একটু আদর স্নেহে রাখলে সংসার সুখের নীড় হবে।আর পুত্রবধূ, মেয়ের জামাই ও ছেলে মেয়ে যদি নিজের শ্বশুর শ্বাশুড়ীকে মায়ের মতো আগলে রাখে তবে গৃহ শান্তির স্বর্গরাজ্য হতে বাধ্য।★*মহান আল্লাহপাক আমাদের সকলকে, আমাদের সকলের সন্তানদের হেদায়েত করুন,হেফাজত করুন,আলোকিত মানুষ করুন,সংসার সুখের করুন,আমীন 😍❤️
“আসুন মানবতা ফেরী করি,মানবতায় জিবন গড়ি।”

  • ফেসবুক থেকে নেওয়া
আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত

- Advertisment - spot_img