বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২২
Homeপ্রধান সংবাদরাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ খাদ্যপণ্যে প্রভাব ফেলেছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ খাদ্যপণ্যে প্রভাব ফেলেছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ বাংলাদেশের খাদ্যপণ্যে প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’ এ তিনি এ কথা জানান। মন্ত্রী বলেন, রাশিয়া-ইউক্রনের যুদ্ধ অনেকটা প্রভাব ফেলেছে আমাদের খাদ্যপণ্যের ওপর। সেজন্য সবাইকে সাশ্রয়ী হতে হবে। সামনের দিকে কিছুটা সংকট রয়েছে। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। শ্রীলঙ্কার অবস্থা দেখে অনেকে প্রচার করছে সে অবস্থা হতে পারে। সেরকম কোনো আশঙ্কা নেই। আমরা নিজেরাই শ্রীলঙ্কাকে ঋণ দিয়েছি। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অবস্থা ভালো থাকলে দেশের অবস্থাও ভালো থাকে। আমি বৈশ্বিক সমস্যার মধ্যে আছি। তেল, চিনি, ডালের দাম নিয়ে একটু সমস্যা হচ্ছে। তেলের ৯০ ভাগ আমাদের আমদানি করে আনতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের প্রভাব পড়লে দেশেও দাম বেড়ে যায়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে কয়েকটি পণ্য আছে যেগুলো আমরা মনিটর করি। ঈদের আগে তেলের দাম নিয়ে অনেক কথা এসেছে। প্রতি মাসে একবার বসে ট্যারিফ কমিশন এই প্রাইজিংটা (দাম নির্ধারণ) করে। সবকিছু অ্যাভারেজ করে দামটা নির্ধারণ করা হয়। আমাদের একটা বিশেষ কারণ ছিল, ঈদের (রমজান) মাসটাতে আমরা দামটা বাড়াতে চাইনি। ব্যবসায়ীদের বলেছিলাম, এই সময়টা ম্যানেজ করেন। তাই যেই সময়ে দামটা ফিক্স (নির্ধারণ) করা হয় সেখানে কিছুটা বিলম্ব হয়। যেহেতু তারা ভেবেছিলেন ঈদের পর দামটা বাড়বে, সেজন্য অনেকে তেল জমিয়ে রেখেছিলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ নয়, স্থিতিশীল রাখতে চাই। ভোজ্যতেলের ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রচুর ব্যবসায়ীকে আমরা ধরছি। সেটি ধরে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করছে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সেখানে অনেকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে এবং জেলেও পাঠানো হয়েছে। তবে এমন কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে চাই না যাতে বাজার অস্থিতিশীল হয়। রমজান মাসটা সংযমের মাস। ব্যবসায়ীরা জানতেন ঈদের পর দাম বাড়বে, তারা সেই সুযোগ নিয়েছেন। তবে আমাদের ভুল হয়েছে টানা দুই মাস তেলের দামটা নির্ধারণ করিনি, যদি করতাম তাহলে তারা সুযোগটা নিতে পারতেন না। এ সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামটা বেড়েছিলে, তাই সেটি আগে ফিক্স (নির্ধারণ) করলে সমস্যাটা হতো না। ব্যবসায়ীরা সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সরকারের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা উচিত না। আমরা ব্যবসায়ীবান্ধব। আমরা আন্তর্জাতিক বাজারের দাম অনুযায়ী দাম ফিক্সআপ (নির্ধারণ) করে দেই। সে অনুযায়ী বাজারে দামটা থাকলে বাজার স্থিতিশীল থাকবে। আমরা বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে চাই না, বাজার স্থিতিশীল রাখতে চাই। মন্ত্রী বলেন, এ মুহূর্তে পেঁয়াজের দাম একটু চড়া। তবুও দাম মানুষের নাগালের মধ্যেই আছে। পেঁয়াজের দাম যদি কৃষক ২৫ টাকা পান তাহলেও মোটামুটি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। পরে সেটির সঙ্গে ট্রান্সপোর্টসহ কিছু কস্টিং যুক্ত হয়। আমরা কিছুকিছু ভালো কাজ করতে পেরেছি। আমরা ৬০ বিলিয়ন রপ্তানি করতে পারবো বলে আশা করছি। ২০২৪ সালে ৮০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করতে পারবো বলে আশা করছি। ১৫০টির বেশি দেশে ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য পাঠাতে পারছি। অন্যদিকে ইথিউপিয়া এসব পণ্যের ৯০ শতাংশ বাইরে থেকে আমদানি করে। গার্মেন্টস সেক্টরে আরেও ১০ লাখ কর্মী যুক্ত হবে বলে আশা করছি। বর্ডার হাট সম্পর্কে তিনি বলেন, মমতা ব্যানার্জীর সঙ্গে কথা বলেছিলাম বিষয়টি নিয়ে। আশা করছি তিন-চারটি প্রোপাজাল দেবো। মিজোরামে গিয়েও আলোচনা হয়েছে। ছোট রাজ্য হলেও তারা এটি খুব পজিটিভলি দেখছে। এটা সাজেকের কাছাকাছি, ২০-২৫ কিলোমিটার দূরে। এ বিষয়টি নিয়ে দ্রুত দেখতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এদিকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ১৬ মে থেকে খোলাবাজারে ১১০ টাকা লিটার সয়াবিন তেলসহ অন্যান্য পণ্য বিক্রি শুরু করার ঘোষণা দিয়েছিল। তবে গত রোববার রাতে হুট করেই সেই কার্যক্রম স্থগিত করার সিদ্ধান্ত জানায় সরকারি প্রতিষ্ঠানটি। ঠিক কি কারণে টিসিবির পণ্য বিক্রি স্থগিত করা হয়েছে তার ব্যাখ্যা দেন টিপু মুনশি। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা এক কোটি মানুষকে টিসিবির পণ্য দিয়েছি দু’বার। আমাদের মাথায় আছে এক কোটি মানুষকে দেওয়া রেগুলার করবো। ১৫-১৬ তারিখ থেকে যেটা দিতে চেয়েছিলাম, সেটা কিন্তু এক কোটি মানুষকে নয়, ট্রাকে করে ঢাকা-চট্টগ্রাম এমন শহরগুলোতে। প্রধানমন্ত্রী আমাদের বলেছেন শহরের এই মানুষগুলোকে দেওয়া হচ্ছে, গ্রামের মানুষকে তো দেওয়া হচ্ছে না। তোমরা একটু সময় নিয়ে ঢাকাতে আমরা যে দেবোÑ বলেন টিপু মুনশি। তিনি বলেন, এর আগে ঢাকাতে আমরা কোনো তালিকা পায়নি, যে নেটওয়ার্কে গ্রামে দেওয়া হয়েছিল। ঢাকাতে ট্রাকে করে দেওয়া হয়। এক কোটির মধ্যে ১৫ লাখ মানুষকে আমরা ট্রাকে করে দেয়। বাকি ৮৫ লাখ দরিদ্রসীমার নিচে যে কার্ড থাকে তাদের দেওয়া হয়। ইনস্ট্রাকশনটা এসেছে। আমরাও রি-অ্যারেঞ্জ করেছি। তিনি আরও বলেন, ৮৫ লাখ মানুষকে বাদ দিয়ে ১৫-১৬ লাখ মানুষকে দেয়ার চেয়ে, একটুখানি চাপ দিয়ে এই ১৫ দিনের মধ্যে ঢাকা ও বরিশালে তালিকা আমরা করিয়ে নেবো, যাদের আমরা দেবো। তাহলে জুনের প্রথম থেকেই আমরা এক কোটি মানুষকে দেওয়া শুরু করতে পারবো। এই ১৫ দিন পিছিয়ে গেছি, আসলে আরও বেশি অ্যাডভ্যান্স হওয়ার জন্য। এর আগে টিসিবি থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল ১৬ মে থেকে খোলাবাজারে ১১০ টাকা লিটার সয়াবিন তেলসহ অন্যান্য পণ্য বিক্রি শুরু করা হবে। তবে গত রোববার রাতে হুট করেই সেই কার্যক্রম স্থগিত করে বিজ্ঞপ্তি দেয় সংস্থাটি। সংস্থাটি বলছে, রাজধানীতেও এখন শুধু ফ্যামিলি কার্ডে পণ্য দেওয়া হবে। খোলাবাজারে ট্রাকে করে আর পণ্য বিক্রি হবে না। ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বাস্তবায়নে গতকাল সোমবার থেকে খোলা বাজারে পণ্য বিক্রি স্থগিত করা হয়েছে। টিসিবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিক্রয় কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা ও প্রকৃত সুবিধাভোগীর কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাশ্রয়ী মূল্যে পৌঁছানোর লক্ষ্যে সরকার নীতিগতভাবে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে টিসিবির পণ্য (ভোজ্যতেল, মশুর ডাল, চিনি) বিক্রির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ঢাকা (উত্তর ও দক্ষিণ) ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে ফ্যামিলি কার্ড প্রণয়ন ও বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর হতে শুধুমাত্র এই কার্ডের মাধ্যমেই টিসিবির পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সে কারণে ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নিমিত্তে চলতি মাসের স্বল্প পরিসরে সাধারণ ট্রাকসেল কার্যক্রম (১৬ হতে ৩০ পর্যন্ত) স্থগিত করা হলো। আগামী জুন মাসে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে এক কোটি নিম্নআয়ের পরিবারের কাছে টিসিবির ভর্তুকিমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করা হবে বলে টিসিবি জানায়। এতদিন রাজধানীতে খোলাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় রাখতে সারাদেশের নিম্ন আয়ের পরিবারের মাঝে সাশ্রয়ী ও ভর্তুকি মূল্যে এসব পণ্য বিক্রি করেছে সরকারি এ বিপণন সংস্থা। যা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ট্রাকে করে ভ্রাম্যমাণে বিক্রি করা হতো। ফ্যামিলি কার্ড প্রবর্তনের কারণে এ সুযোগ এখন আর থাকছে না। বিএসআরএফ সভাপতি তপন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হকের সঞ্চালনায় সংলাপে অন্যান্যের মধ্যে সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক মেহ্দী আজাদ মাসুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আকতার হোসেন, অর্থ সম্পাদক মো. শফিউল্লাহ সুমন, সদস্য ইসমাইল হোসাইন রাসেল, হাসিফ মাহমুদ শাহ উপস্থিত ছিলেন।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত

- Advertisment - spot_img