সোমবার, মে ২৭, ২০২৪
Homeপ্রধান সংবাদশরীর স্বাস্থ্য সুস্থ ও ভালো রাখার উপায়

শরীর স্বাস্থ্য সুস্থ ও ভালো রাখার উপায়

কথায় আছে, স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। যদি স্বাস্থ্য ভালো না থাকে তাহলে কোন কিছু করতেই ভালো লাগেনা। আর স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে মনও ভালো থাকে না। তাই স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে হলে এর কিছু যত্ন নিতে হবে। জীবনকে সুখী করে তুলতে স্বাস্থ্য ভালো রাখার বিকল্প নেই। তাই আমাদেরকে স্বাস্থ্যের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আলোচনা করব কিভাবে শরীর স্বাস্থ্য সুস্থ ও ভালো রাখা যায়। সেই সাথে শরীর স্বাস্থ্য ভালো রাখার কিছু উপায় তুলে ধরব।

শরীর-স্বাস্থ্য সুস্থ ও ভালো রাখার কার্যকারী ৮ উপায়ঃ
১. সঠিক সময় সঠিক খাবার খাওয়া
শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য নিয়মিত সঠিক পরিমাণে সঠিক খাবারটি খেতে হবে। অন্যথায় শরীর সুস্থ থাকবে না। সুস্বাস্থ্যের জন্য আমাদের ৪০ ধরনের নিউট্রিয়েন্টসের দরকার হয়। কোন একক খাবার তা আমাদের দিতে পারে না। এজন্য আমাদের সুষম খাদ্যের প্রয়োজন হয়। নিয়মিত খাদ্য তালিকায় অবশ্যই পুষ্টিকর খাবার রাখতে হবে। পুষ্টিকর খাবার আমাদের শরীরের ঘাটতি মেটায়। সে সাথে শরীরের সুস্থ ও সরল রাখতে ভুমিকা পালন করে। পুষ্টিকর খাবারের মধ্যে উচ্চ ফাইবার, কম ফ্যাট এবং উদ্ভিদ জাতীয় খাবার খেতে হবে। প্রতিদিন কমপক্ষে ৬ থেকে ৮ টি ফল খেতে হবে এবং প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি খেতে হবে। নিয়মিত সঠিক পুষ্টি চাহিদা পূরণের জন্য খাদ্য তালিকা করা যেতে পারে। এতে করে খুব সহজেই শরীরে পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা যায়।

শরীরে পুষ্টির চাহিদা ও শরীরকে সুস্থ রাখতে যে সকল খাবার খাওয়া উচিতঃ
১. দুধ ও দুদ্ধ জাত খাবার খেতে হবে।

২. দিনে অন্তত ৬ থেকে ৮ টি ফল খেতে হবে এবং শাকসবজি খেতে হবে।

৩. উচ্চমানের আঁশযুক্ত খাবার যেমন চাল, আলু, পাস্তা, রুটি খেতে হবে।

৪. সিম, ডাল, মাছ, মাংস ইত্যাদি প্রোটিন জাতীয় খাবার খেতে হবে।

৫. ফ্যাট জাতীয় খাবার কমাতে হবে।

৬. দিনে অন্ততপক্ষে ৬ থেকে ৮ গ্লাস পানি খেতে হবে।

২. সবজি ও ফলমূল খাওয়া
শরীর সুস্থ ও সবল রাখতে শাক সবজি ও ফলমূল খান। শাক সবজি ও ফলমূল আমাদের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে। শাকসবজি ও ফলমূলের প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন রয়েছে। শরীরের ভিটামিনের ও পুষ্টির চাহিদা পূরণে শাকসবজি ও ফলমূলের বিকল্প নেই। আপনি ভিটামিনের ঔষধ না খেয়ে প্রাকৃতিক এই ভিটামিন গ্রহণ করতে পারেন। এতে করে আপনার শরীরে কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হবে না। শরীর সুস্থ ও সরল থাকবে। বিশ্বের সকল স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও ডাক্তাররা সুস্থ থাকতে প্রাকৃতিক খাবারের পরামর্শ দেন। প্রাকৃতিক খাবার বলতে শাকসবজি ও ফলমূলকে বোঝানো হয়েছে। তাই নিজের শরীরকে সুস্থ রাখতে নিয়মিত শাকসবজি এবং ফলমূল জাতীয় খাবার বেশি গ্রহণ করুন।

৩. প্রতিদিন পর্যন্ত পরিমাণে পানি পান করুন
পানির অপর নাম জীবন। পানি ছাড়া আমরা নিজেদের জীবন কল্পনাই করতে পারি না। আমাদের শরীরে ৬০ থেকে ৭০ ভাগ পানি। শরীরকে সুস্থ রাখতে পানির বিকল্প নেই। পানি আমাদের বদহজম, ডিভাইডেশন, মাথাব্যথা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের রোগ সারাতে কাজ করে। তাই বলায় যাই, পানি পান শুধু তৃষ্ণা মেটাতেই নয় শরীরের উপকার সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

পানি পানের আরও কিছু গুণাবলী নিয়ে আলোচনা করা হলোঃ

১. দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে।
২. হাড়ের জোর বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
৩. গরমের শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
৪. দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
৫. ত্বক ভালো রাখতে সহায়তা করে।

৪. পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম ও বিশ্রাম করুন
শরীরকে সুস্থ ও সবল রাখতে ঘুমের বিকল্প নেই। যদি আপনি নিয়মিত সঠিক পরিমাণে না ঘুমান তাহলে আপনার শরীর দুর্বল হয়ে পড়বে। একজন সুস্থ মানুষের দিনে কমপক্ষে সাত থেকে নয় ঘন্টা ঘুমানো দরকার। যদি আপনি দিনে পর্যাপ্ত পরিমাণে না ঘুমান তাহলে আপনার শরীরের উপরে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে ছাত্র-ছাত্রীদের এই বিষয়ে সচেতন হতে হবে। কম ঘুমের ফলে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনায় মনোযোগ থাকে না, বিভিন্ন রোগবালায় দেখা দেয়, খাওয়ার রুচি হারিয়ে ফেলে ইত্যাদি।

বিশেষজ্ঞদের মতে পর্যাপ্ত ঘুম মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে সুস্থ রাখে। কম ঘুমালে শরীরের ওজন দ্রুতই কমে যায়। এতে করে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। পরিশ্রমের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম ও বিশ্রাম করা প্রয়োজন। এটিও পরিশ্রমের অংশ। কম ঘুমানোর ফলে শরীরের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। তার মধ্যে বিষন্নতা, হৃদরোগ, টাইপ সি ডায়াবেটিস, মেজাজ খিটখিটে ইত্যাদি। এসব রোগ থেকে মুক্তি পেতে হলে এবং শরীরকে সুস্থ রাখতে হলে ঘুমের বিকল্প নেই। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমান।

৫. নিয়মিত ব্যায়াম করুন
নিয়মিত শারীরিক অনুশীলন স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। আপনার যদি শরীরকে ফিড এবং রোগ মুক্ত করতে চান তাহলে নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। সপ্তাহে পাঁচ দিন অন্ততপক্ষ ৩০ মিনিট করে হাঁটতে হবে বা ব্যায়াম করতে হবে। এতে করে ৮৫% স্বাস্থ্য ভালো রাতে সহায়তা করে। নিয়মিত ব্যায়াম হৃদরোগ, টাইপ-৩ ডায়াবেটিস সহ অন্যান্য রোগকে ৫০% পর্যন্ত কমিয়ে দেয়। সেই সাথে মৃত্যুযুকিও ৩০% কমিয়ে আনে। তাই নিয়মিত ব্যায়াম করুন। এতে শরীরে রোগ বালাই কম হবে। আপনি থাকবেন ফিট ও সুরক্ষিত। শারীরিক ব্যায়াম শরীর-এর সাথে মনকেও ভালো রাখে। তাই শরীর ও মনকে ভালো রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম করুন।

৬. প্রতিদিন পর্যাপ্ত আলো বাতাস গ্রহণ করুন
সুস্থ থাকতে হলে প্রতিদিন পর্যাপ্ত আলো বাতাস গ্রহণ করুন। এটি শরীর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। সূর্যের আলোতে ভিটামিন “ডি” পাওয়া যায়। যারা শরীরের জন্য খুবই উপকারী। এছাড়াও সূর্যের আলো রক্তচাপ কমাতে, হাড়ের ক্ষয় রোধ করতে, হাড়ের শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। আপনার বাসস্থান এমনভাবে নির্মাণ করুন যেন প্রতিদিন সূর্যের আলো ঘরে প্রবেশ করে। প্রতিদিন শরীরকে সুস্থ রাখতে সকালে হাঁটাহাঁটি করতে পারেন। এতে করে শরীরের যেমন সূর্যের আলো লাগে তেমনি পর্যাপ্ত নির্মল বাতাসে পাওয়া যায়। এতে করে আপনার শরীর স্বাস্থ্য ও মেজাজ দুই ভালো থাকে। ডাক্তারা পরামর্শ দেন যে, প্রতিদিন সকালে হাঁটাহাঁটি করা শরীরের জন্য খুবই উপকারী। তাই শরীরকে সুস্থ সবল রাখতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত আলো বাতাস গ্রহণ করুন।

৭. শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়মিত চেকআপ করুন
আপনার শরীর স্বাস্থ্য ঠিক আছে কিনা তা বুঝবেন কিভাবে? তা বুঝতে হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ নিন। এতে করে কোন রোগ বাসা বাঁধলেও বেশি একটা বিস্তার করতে পারবে না। সহজেই সে রোগকে নির্মূল করা যাবে। সেই জন্য সর্বদা অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। শুধু রোগ হওয়ার পরে তার চিকিৎসা করাটা যেমন প্রয়োজনীয় তেমনই রোগ হওয়ার আগেই সচেতন হওয়াও প্রয়োজনীয়। তাই রোগ আক্রান্ত হওয়ার আগেই রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে বিদেশি অভিজ্ঞ ডাক্তারদের পরামর্শ নিতে হবে। অর্থাৎ টেলিমেডিসিন প্রক্রিয়াও গ্রহণ করতে পারেন।

৮. শরীর সুস্থ রাখতে বেশি করে হাসুন
মানুষের শরীরের সাথে মনের এক সংযোগ রয়েছে। শরীর ভালো থাকলে যেমন মন ভালো থাকে। তেমন মন ভালো থাকলেও শরীর অনেক অংশে ভালো হয়ে যায়। শরীরকে ভালো রাখতে মনের ভুমিকা অনেক। তাই নিয়মিত প্রাণ খুলে হাসুন। হাসি মানুষের মন মেজাজ ভালো রাখে। অনেকের ধারণা কৃত্রিম হাসি কি মানুষের শরীর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে কিনা। বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গেছে যে, হাসি মানুষের শরীর স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। অর্থাৎ এটি মানুষের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। হোক সেটা প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম। মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে হাসির বিকল্প নেই।

শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে উপরের নিয়ম গুলো সকলকে মেনে চলতে হবে। তবে আপনার শারীরিক মানসিক ভাবে সুস্থ থাকতে পারবেন। এর পাশাপাশি ডায়েট, অনুশীলন, স্বাস্থ্যসেবা, নিয়মিত ঘুমানো ইত্যাদি বিষয় মেনে চলতে হবে। সেই সাথে আপনার জীবনকে সুস্থ ও নির্মল করতে নিয়মিত অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না। তবে আপনি শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকবেন।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত

- Advertisment - spot_img