শুক্রবার, জুলাই ১৯, ২০২৪
Homeপ্রধান সংবাদসুনীল অর্থনীতিকে আরও এগিয়ে নিতে সরকার বদ্ধপরিকর : নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

সুনীল অর্থনীতিকে আরও এগিয়ে নিতে সরকার বদ্ধপরিকর : নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে এদেশকে স্মার্ট ও উন্নত করে তুলতে হাইড্রোগ্রাফি, সমুদ্র বিজ্ঞান এবং সুনীল অর্থনীতিকে আরও এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার বদ্ধপরিকর।
প্রতিমন্ত্রী আজ মঙ্গলবার ঢাকায় বিজয় সরণীস্থ বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘর মাল্টিপারপাস হলে বাংলাদেশ নৌবাহিনী আয়োজিত ‘বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস-২০২৪’ উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে বাংলাদেশ ন্যাশনাল হাইড্রোগ্রাফিক কমিটির সদস্যবৃন্দ, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাগণ এবং মেরিটাইম সংস্থার সদস্য ও গবেষকগণ অংশগ্রহণ করেন। এবছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ‘সামুদ্রিক কার্যক্রমে নিরাপত্তা, দক্ষতা ও টেকসই উন্নয়নে হাইড্রোগ্রাফিক তথ্যের গুরুত্ব’ যা একটি সমৃদ্ধ সামুদ্রিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হাইড্রোগ্রাফির উল্লেখযোগ্য ভূমিকাকে নির্দেশ করে। বিশিষ্ট পানি বিশেষজ্ঞ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিরেটস অধ্যাপক ড. আইন নিশাত এবং ন্যাশনাল হাইড্রোগ্রাফি কমিটির চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম আনোয়ার হোসেন এতে বক্তৃতা করেন।

প্রতিমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমুদ্র অর্থনীতি বিষয়ক দূরদর্শিতার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বঙ্গোপসাগরে ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে বাংলাদেশের একচ্ছত্র সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত হয়েছে। সমুদ্র বিজয়ের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি সুবিশাল অর্থনৈতিক এলাকা। তাঁর (শেখ হাসিনা) দূরদর্শী নেতৃত্বে বর্তমান সরকার সুনীল অর্থনীতি বিকাশের লক্ষ্যে যেসকল বহুমুখী উদ্যোগ ও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তার অবারিত সুফল ভোগ করবে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের সমুদ্র এলাকায় হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ পরিচালনা ও এ সংক্রান্ত সেবাদানের মাধ্যমে নিরাপদ নেভিগেশন ও সামুদ্রিক অর্থনীতির বিকাশে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ভবিষ্যতে আরও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। তিনি বলেন, সুনীল অর্থনীতি বিকাশের লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের শাসনামলে পায়রা সমুদ্র বন্দর, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর, বঙ্গবন্ধু টানেলের মতো মেগা প্রকল্প সম্পন্ন হয়েছে এবং মাতারবাড়ী আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট, নতুন এলএনজি টার্মিনাল, অফশোর রিনিউয়েবল এনার্জি প্রকল্প, সমুদ্র তলদেশের তেল ও গ্যাস সাপ্লাই পাইপলাইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসকল জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং কারিগরি বিষয়ে স্বনির্ভরতা অর্জন করতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভিসকে সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। বিশ্বের উন্নত দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহকে আধুনিক হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ জাহাজ এবং স্মার্ট সরঞ্জাম সংযোজন করে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

দিনব্যাপী সেমিনার আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশের মেরিটাইম সেক্টরের অংশীজন এবং নীতি নির্ধারকদের মধ্যে সমন্বয় আরও সুদৃঢ় হবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামুদ্রিক সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার এবং সমুদ্রকে নিরাপদ ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে দেশের সমুদ্র ব্যবহারকারী সকল সংস্থার মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
সেমিনারে মূল প্রতিপাদ্য হলো- ‘হাইড্রোগ্রাফিক ইনফরমেশন-এনহান্সিং সেফটি, ইফিসিয়েন্সি এন্ড সাস্টেইনেবিলিটি ইন মেরিন এক্টিভিটিস।’
উল্লেখ্য, হাইড্রোগ্রাফি সংক্রান্ত কার্যক্রমে বাংলাদেশের একটি দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। বাংলাদেশ ২০০১ সালের ২ জুলাই আন্তর্জাতিক হাইড্রোগ্রাফিক সংস্থার ৭০তম দেশ হিসেবে সদস্যপদ লাভ করে। সদস্য দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ২০০৫ সাল থেকে এ দিবসটি গুরুত্বের সাথে পালন করে আসছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর হাইড্রোগ্রাফিক ডিপার্টমেন্টের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশের সমুদ্র এলাকায় নিরাপদ নেভিগেশনের জন্য আন্তর্জাতিক সিরিজের চার্টসহ ন্যাশনাল সিরিজের পেপার ও ইলেক্ট্রনিক চার্ট প্রকাশের মাধ্যমে শতভাগ এলাকার চার্ট কভারেজ নিশ্চিত করা হয়েছে। এ সকল হাইড্রোগ্রাফিক তথ্য-উপাত্ত সামুদ্রিক পরিবেশ সুরক্ষা ও ব্যবস্থাপনা, প্রাণিজ ও খনিজ সম্পদের ব্যবহার, মৎস্য আহরণ, সমুদ্রসীমা নির্ধারণ, সুনামি ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির প্রভাব, উপকূলীয় ভূমি ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক পর্যটন এবং সমুদ্রবিজ্ঞান বিষয়ক বিশ্লেষণে ব্যবহƒত হয়ে আসছে। আন্তর্জাতিকভাবে মেরিটাইম সেইফটি, সিকিউরিটি ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে হাইড্রোগ্রাফারদের অবদান স্মরণ করাই এ দিবসের মূল লক্ষ্য।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত

- Advertisment - spot_img