সোমবার, এপ্রিল ১৫, ২০২৪
Homeআমেরিকাসৌদি রাজ পরিবার এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক

সৌদি রাজ পরিবার এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক

মক্কা নগর কেন্দ্রের মিনিট চল্লিশের দূরত্বে নাওয়ারিয়াহ এলাকাটি। মোহাম্মদ বিন নাসের আল গামদানি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বাড়িতেই বসে আয়েস করছিলেন। আগমন ঘটে সৌদি নিরাপত্তা বাহিনীর। স্ত্রী সন্তানদের সামনেই উঠিয়ে নেয়া হয়।

টুইটার ও ইউটিউবে বাদশাহ, রাজ পরিবার এবং সৌদি সরকারের সমালোচনা করার অভিযোগ আনা হয়। মৃত্যু দণ্ড হয়েছে নাসের আল গামদানির। ৫৪ বছর বয়সের নাসের আল গামদানির টুইটারে ফলোয়ারের সংখ্যা মাত্র ১০ জন। এ ১০ জনের মধ্যেই তিনি ‘অপপ্রচার’ চালিয়েছেন। জঙ্গিদের সাথে যোগসূত্র সৃষ্টি করেছেন, এসব অভিযোগ আনা হয়েছে।

ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ সালমানের নেতৃত্বে সৌদি আরবে ব্যাপক ‘উন্নয়ন’ চলছে। পুরনো সব দালান ভেঙ্গে গড়ে উঠছে গগনচুম্বী সব ইমারত। বাংলাদেশ ও প্রতিবেশী দেশগুলোর শ্রমিকদের ব্যাপক কর্মযজ্ঞে ২০৩০ সালে এক ভিন্ন সৌদি আরব দেখা যাবে। বিশ্বের আধুনিক নগর হিসেবে গওরে উঠবে জেদ্দাহ নগর। এরমধ্যেই পর্যটকরা যেতে শুরু করেছেন। বিদেশীদের ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট করার সমূহ আয়োজন লক্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এসবের মধ্যেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের লোকজন ব্যবসা বাণিজ্য করছেন। মক্কা নগরের বহু এলাকায় বাংলাদেশীদের ব্যবসা বাণিজ্য। কতৃপক্ষকে ফাঁকি দিয়ে নথিপত্রহীন ব্যবসা পরিচালনা করছেন। অনেকেরই বৈধ কোন কাগজপত্র নেই। নিজের ব্যবসা করারও বৈধতা নেই। আমাকে রেখেই, ‘বলোদিয়া’ আসছে বলে দোকানের শাটার ফেলার দৃশ্য দেখি। আতংকে লোকজনের ফ্যকাশা হয়ে উঠা মুখ দেখে আতংক ছড়ায়।

দেশিটির ভেতরে বা বাইরে রাজ পরিবার বা শাসকদের বিরুদ্ধে কোন কথা বলার কোন সুযোগ নেই। গণতন্ত্রকে পশ্চিমা ধারনা বলে মনে করা হয়। মানবাধিকার, নারী অধিকারের পশ্চিমা সংজ্ঞা তরজমা করারও সাহস নেই কারও। এমনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো মাতবর সংস্থাগুলো মরুভূমির ‘চান্দি ফাটা’ তাপদাহে বারবার অজ্ঞান হয়।

জাতিসংঘ আর আমেরিকা গরিবের বৌয়ের পিটে হাত বুলাতে অভ্যস্ত। এ হাত পিট থেকে দ্রুত বুকের দিকে যাওয়ার কথা আমরা জানি। সৌদি আরব নিয়ে উনাদের কোন ঘাটাঘাটি নেই।
নাসের আল গামদানির মুক্তির জন্য এমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দাবী জানিয়েছিল। এমন এক বিবৃতিকেও বেশ সাহসের বলে মনে করা হয়। আদনান খাসোগীর খবর অনেকেই জানেন। জানেন না, বা জানার উপায় নেই এমন খবর প্রতিদিন ঘটে।

‘উন্নয়নের’ ঝকঝকে মহাসড়ক। যার ইচ্ছে, যেমন করে চালানো গাড়িতে বলে সঙ্গী যুবককে প্রশ্ন করি। যুবকটি আতংকে চলন্ত গাড়ির কাঁচ বন্ধ আছে কি না, পরখ করে নেন। গলার এদিক এদিকে হাত ঘষে কোন বার্তা দেয়ার চেষ্টা করলেন।
নাসের গামদানি অনলাইনে বাদশাহ এবং ক্রাউন প্রিন্সের সমালোচনা করেছিলেন। সৌদি বৈদেশিক নীতির সমালোচনা, ধর্মীয় নেতাদের মুক্তি এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সমালোচনা করেছিলেন।

আবারও উল্লেখ করছি, তার টুইটার একাউন্টে মাত্র ১০ জন অনুসারী। সৌদি আদালত এ সপ্তাহে তাঁকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে। ২০২২ সালে আদালতের নির্দেশেই সৌদি আরবে ১৯৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। বিশ্বের মধ্যে যা সর্বোচ্চ।

অপ্রকাশ্য বিষয়গুলো আমরা জানি না। জানার কোন উপায় নেই। বছরের পর বছর কারাগারে আছেন নিছক সন্দেহের কারণে অনেকেই। এদের নিয়ে এমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মাঝেমধ্যে বিবৃতি দেয়। এমন বিবৃতিকে আজকাল বাংলাদেশেই পাত্তা দেয়া হয় না !

মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার বিশাল স্থাপনাটি দূর থেকে দেখি। শরীরের লোম নড়েচড়ে উঠে। হাত কাটা, কব্জি কাটার অনুষ্ঠান নাকি এখন প্রকাশ্যে হয় না।
মাথায় ঝিম ধরে। হাত, কব্জি, ঘাড় সব যথাস্থানে আছে কি না, নিজেই পরখ করে দেখি!

  • ইব্রাহিম চৌধুরীর। তাঁর ফে,বু থেকে নেয়া।
আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত

- Advertisment - spot_img