মঙ্গলবার, মার্চ ৫, ২০২৪
Homeপ্রধান সংবাদস্বল্পসময়ের মধ্যে মেরামতকৃত রেলপথ নতুন করে সংস্কারের উদ্যোগ

স্বল্পসময়ের মধ্যে মেরামতকৃত রেলপথ নতুন করে সংস্কারের উদ্যোগ

বিপুল ব্যয়ে রেলপথ মেরামতের স্বল্পসময়ের ব্যবধানে আবারো সংস্কার করার উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। মূলত মেরামত কাজে ব্যাপক অনিয়মের কারণেই এমন পরিস্থিতর উদ্ভব হয়েছে। বিগত ২০১৮ সালে রেলপথ মেরামতের সোয়া ২০০ কোটি টাকার প্রকল্পটি শেষ হয়েছে। তবে ওই প্রকল্পের কাজ অনিয়মে ভরপুর ছিল। আর সেজন্যই রেলওয়েকে নতুন করে সংস্কারে যেতে হচ্ছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ষোলশহর-দোহাজারী ও ফতেয়াবাদ-নাজিরহাট সেকশন বাংলাদেশ রেলওয়ের সবচেয়ে পুরনো সেকশনগুলোর অন্যতম। ১৯৩১ সালে চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত রেল যোগাযোগ শুরু হয়। নির্মাণের পর ১৯৮০-৮৬ সালের মধ্যে দোহাজারী সেকশনটিতে কাঠের স্লিপার প্রতিস্থাপন করা হয়। আর ২০১০ সালে ওই সেকশনটির উন্নয়নে একটি প্রকল্প নেয়া হয়। ষোলশহর-দোহাজারী সেকশন ছাড়াও ফতেয়াবাদ-নাজিরহাট সেকশনের উন্নয়নে নেয়া প্রকল্পটির মূল ব্যয় ধরা হয়েছিল ২০৩ কোটি ৪৯ লাখ ৭১ হাজার টাকা। ২০১১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৫ সালের ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার কথা ছিল। পরবর্তী সময়ে ২৩২ কোটি ৩৬ লাখ ৬১ হাজার টাকার সংশোধিত ডিপিপি একনেকে পাস হয়। প্রথম সংশোধনীতে মেয়াদ দুই বছর বাড়িয়ে ২০১৭ সাল করা হয়। পরবর্তী সময়ে ব্যয় না বাড়িয়ে প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু দু’দফায় বাড়ানো সময়ে প্রকল্প শেষ হলেও কাজের গুণগত মান নিম্ন ছিল। ফলে বড় প্রকল্পের মাধ্যমে ওই রেল রুটের সংস্কার করা হলেও ট্রেনের গতি আশানুরূপ বাড়ানো যায়নি। আগে ওই দুটি রেলপথ দিয়ে ট্রেন সর্বোচ্চ ২০-২৫ কিলোমিটার গতিতে চললেও সংস্কারের পর ১০-১৫ কিলোমিটার গতি বেড়েছে। কিছুকিছু অংশে সংস্কারের আগের গতিতেই ট্রেন চলছে। এমন পরিস্থিতিতে সাম্প্রতিক সময়ে অন্তত ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ষোলশহর-দোহাজারী সেকশনটিতে নতুন করে সংস্কার কাজ শুরু করতে হচ্ছে। দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত নতুন রেললাইন স্থাপন কাজ শেষ পর্যায়ে চলে আসায় তড়িঘড়ি করে ৪৫ কিলোমিটার রেলপথটিতে আবারো সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, প্রকল্পের অধীনে সর্বমোট ৯ জন পরিচালক পরিবর্তন হয়েছে। ব্যালাস্ট বা রেলপথের গুরুত্বপূর্ণ পাথর ছাড়া অন্যান্য উপকরণ অর্থাৎ রেলপাত, অ্যান্টিভেন্ডাল কংক্রিট স্লিপার, কাঠের স্লিপার, ওয়েলডিং উপকরণ, রাবার প্যাড, রেল ক্লিপ বসানো হয়েছে। কিন্তু ষোলশহর-দোহাজারী রেলপথে ৫৫ হাজার ঘনমিটার ব্যালাস্ট দেয়ার কথা থাকলেও মাত্র ৭ হাজার ঘনমিটার দেয়া হয়েছে। আর ফতেয়াবাদ-নাজিরহাট সেকশনে ২৭ হাজার ঘনমিটারের স্থলে পাথর দেয়া হয়েছে ১৩ হাজার ঘনমিটার। পুনর্বাসিত ট্র্যাক সেকশনে পাথরের পরিমাণ অত্যন্ত কম এবং ট্র্যাক সেকশনে পাথর কম থাকায় রেললাইন অনেক স্থানে আঁকাবাঁকা ও স্লিপার ফেটে যেতে দেখা যায়। সার্বিকভাবে পুনর্বাসিত ট্র্যাক সেকশনে কাজের মান সন্তোষজনক পাওয়া যায়নি বলে পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তারা মন্তব্য করেছেন। সূত্র আরো জানায়, পাথর না থাকার কারণে ট্রেন চলাচলের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নের অল্প সময়ের মধ্যেই রেলপথ আঁকাবাঁকা হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি স্লিপারগুলো ফেটে গেছে। সার্বিকভাবে পুনর্বাসিত ট্র্যাক সেকশনের কাজের মান সন্তোষজনক হয়নি। তাছাড়া ষোলশহর-দোহাজারী সেকশনের ৬০টি ও ফতেয়াবাদ-নাজিরহাট সেকশনের ৪৭টি সেতু নির্মাণ অথবা পুনঃনির্মাণের কথা ছিল। তার মধ্যে ষোলশহর-দোহাজারী সেকশনের ৬০টি সেতুর জন্য নুনা ট্রেডার্স-আরপি কন্সট্রাকশনের (জেভি) থাকলেও ২০১৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ৩১টি সেতুর কাজ শেষ করেনি। যে কারণে ১৩ কোটি ৯৯ লাখ ৯৭ হাজার টাকার চুক্তিবদ্ধ থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে পরবর্তী সময়ে ৩২টি সেতুর জন্য ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে মেসার্স এসএসইসিএল-এসই (জেভি)-এর সঙ্গে ৪২ কোটি ৭০ লাখ টাকায় চুক্তি করা হয়। আর ফতেয়াবাদ-নাজিরহাট সেকশনে ৪৭টি সেতু পুনঃনির্মাণ অথবা আংশিক মেরামতের জন্য ২০১১ সালে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৮৭ হাজার টাকায় দেশীয় মো. ইউনুছ অ্যান্ড ব্রাদার্সের সঙ্গে চুক্তি হলেও শতভাগ কাজ সম্পন্ন হয়নি। প্রকল্পের আওতায় সেতু মেরামত কিংবা পুনঃনির্মাণ করা হলেও সেতুর একপাশ অথবা উভয় পাশ ভরাট হয়ে সেতুগুলো অকার্যকর হয়ে গেছে। আর দুই সেকশনের যেসব সেতু প্রকল্পের বাইরে রাখা হয়েছিল সেগুলো অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে। প্রকল্পটির স্টেশন ভবন নির্মাণ কিংবা পুননির্মাণের ক্ষেত্রেও গাফিলতি ও চুক্তি ভঙ্গের প্রমাণ মিলেছে। যার কারণে প্রকল্প শেষ হওয়ার চার বছরের মাথায় ফের নতুন প্রকল্প হাতে নিতে যাচ্ছে রেলওয়ে। ঢাকা-কক্সবাজার রেলপথ চালু হওয়ার আগেই অন্তত দোহাজারী পর্যন্ত রেলপথ সংস্কার করতে রেলওয়ের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এদিকে রেল সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটির জন্য ২৩২ কোটি ৩৬ লাখ ৬১ হাজার টাকা অনুমোদিত হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিকমতো কাজ না করায় ব্যয় হয়েছে ১৯৭ কোটি ৪৯ লাখ ৮১ হাজার। কাজ পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় নতুন করে ফতেয়াবাদ-নাজিরহাট ও ষোলশহর-দোহাজারী সেকশনের রেলপথ সংস্কার করতে হবে। এরইমধ্যে এ-সংক্রান্ত একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারায় এ প্রকল্পের খরচ আরো বাড়বে। শুধু ষোলশহর-দোহাজারী সেকশনের জন্যই বাড়তি ব্যয় হবে ২৫-৩০ কোটি টাকা। তাছাড়া প্রকল্পের বাইরে থাকা সেতু ও অবকাঠামো সংস্কার ছাড়াও প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ করা অংশ নষ্ট হওয়ায় এ রেলপথ পুরোপুরি সংস্কারে শত কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। অন্যদিকে এ বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী (পিএন্ডডি) ও ট্র্যাক সাপ্লাই অফিসার (টিএসও) আবু রাফি ইমতিয়াজ হোসাইন জানান, কয়েকটি প্যাকেজে ষোলশহর-দোহাজারী সেকশনের সংস্কার কাজ প্রক্রিয়াধীন। বেশ কয়েকটি প্যাকেজের দরপত্র আহ্বান ছাড়াও দুটি প্যাকেজের ঠিকাদার নিয়োগ হয়ে গেছে। শিগগিরই শুরু হবে এ রেলপথের সংস্কার কাজ।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত

- Advertisment - spot_img